ফুটবল

ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও শীর্ষ দলগুলোর অবস্থান

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ (FIFA Men’s World Ranking)। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FIFA) প্রতি নির্দিষ্ট সময় পর পর এই র‍্যাংকিং প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের বর্তমান আন্তর্জাতিক ফুটবল উইন্ডো এবং বিভিন্ন মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের পর ফিফা র‍্যাংকিংয়ে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বিশেষ করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলগুলোর এই পজিশন বা অবস্থান ফুটবল প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই আর্টিকেলে আমরা ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এর সর্বশেষ ডেটা, শীর্ষ ২১১টি দলের বিস্তারিত শক্তি-সামর্থ্য, এশিয়ান পরাশক্তিদের অবস্থান এবং এই র‍্যাংকিং কীভাবে ফুটবল ক্যালেন্ডারে প্রভাব ফেলে তা নিয়ে সম্পূর্ণ ও বিস্তারিত আলোচনা করব।

Table of Contents

ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এর সম্পূর্ণ তালিকা

বিশ্ব র‍্যাংকদেশের নামমহাদেশীয় কনফেডারেশন
ফ্রান্সUEFA
স্পেনUEFA
আর্জেন্টিনাCONMEBOL
ইংল্যান্ডUEFA
পর্তুগালUEFA
ব্রাজিলCONMEBOL
নেদারল্যান্ডসUEFA
মরক্কোCAF
বেলজিয়ামUEFA
১০জার্মানিUEFA
১১ক্রোয়েশিয়াUEFA
১২ইতালিUEFA
১৩কলম্বিয়াCONMEBOL
১৪সেনেগালCAF
১৫মেক্সিকোCONCACAF
১৬মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রCONCACAF
১৭উরুগুয়েCONMEBOL
১৮জাপানAFC
১৯সুইজারল্যান্ডUEFA
২০ডেনমার্কUEFA
২১ইরানAFC
২২তুরস্কUEFA
২৩ইকুয়েডরCONMEBOL
২৪অস্ট্রিয়াUEFA
২৫দক্ষিণ কোরিয়াAFC
২৬নাইজেরিয়াCAF
২৭অস্ট্রেলিয়াAFC
২৮আলজেরিয়াCAF
২৯মিশরCAF
৩০কানাডাCONCACAF
৩১নরওয়েUEFA
৩২ইউক্রেনUEFA
৩৩পানামাCONCACAF
৩৪আইভরি কোস্টCAF
৩৫পোল্যান্ডUEFA
৩৬রাশিয়াUEFA
৩৭ওয়েলসUEFA
৩৮সুইডেনUEFA
৩৯সার্বিয়াUEFA
৪০প্যারাগুয়েCONMEBOL
৪১চেক প্রজাতন্ত্রUEFA
৪২হাঙ্গেরিUEFA
৪৩স্কটল্যান্ডUEFA
৪৪তিউনিসিয়াCAF
৪৫ক্যামেরুনCAF
৪৬ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোCAF
৪৭গ্রিসUEFA
৪৮স্লোভাকিয়াUEFA
৪৯ভেনিজুয়েলাCONMEBOL
৫০উজবেকিস্তানAFC
৫১কোস্টারিকাCONCACAF
৫২মালিCAF
৫৩পেরুCONMEBOL
৫৪চিলিCONMEBOL
৫৫কাতারAFC
৫৬রোমানিয়াUEFA
৫৭ইরাকAFC
৫৮স্লোভেনিয়াUEFA
৫৯আয়ারল্যান্ডUEFA
৬০দক্ষিণ আফ্রিকাCAF
৬১সৌদি আরবAFC
৬২বুর্কিনা ফাসোCAF
৬৩জর্ডানAFC
৬৪আলবেনিয়াUEFA
৬৫বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাUEFA
৬৬হন্ডুরাসCONCACAF
৬৭উত্তর মেসিডোনিয়াUEFA
৬৮সংযুক্ত আরব আমিরাতAFC
৬৯কেপ ভার্দেCAF
৭০উত্তর আয়ারল্যান্ডUEFA
৭১জ্যামাইকাCONCACAF
৭২জর্জিয়াUEFA
৭৩ফিনল্যান্ডUEFA
৭৪ঘানাCAF
৭৫আইসল্যান্ডUEFA
৭৬বলিভিয়াCONMEBOL
৭৭ইসরায়েলUEFA
৭৮কসোভোUEFA
৭৯ওমানAFC
৮০গিনিCAF
৮১মন্টেনিগ্রোUEFA
৮২কুরাসাওCONCACAF
৮৩হাইতিCONCACAF
৮৪সিরিয়াAFC
৮৫নিউজিল্যান্ডOFC
৮৬বুলগেরিয়াUEFA
৮৭গ্যাবনCAF
৮৮উগান্ডাCAF
৮৯অ্যাঙ্গোলাCAF
৯০বেনিনCAF
৯১বাহরাইনAFC
৯২জাম্বিয়াCAF
৯৩থাইল্যান্ডAFC
৯৪চীনAFC
৯৫ফিলিস্তিনAFC
৯৬গুয়াতেমালাCONCACAF
৯৭বেলারুশUEFA
৯৮লুক্সেমবার্গUEFA
৯৯ভিয়েতনামAFC
১০০এল সালভাদরCONCACAF
১০১মোজাম্বিকCAF
১০২ত্রিনিদাদ ও টোবাগোCONCACAF
১০৩তাজিকিস্তানAFC
১০৪মাদাগাস্কারCAF
১০৫নিরক্ষীয় গিনিCAF
১০৬আর্মেনিয়াUEFA
১০৭কিরগিজস্তানAFC
১০৮লেবাননAFC
১০৯কমোরোসCAF
১১০কাজাখস্তানUEFA
১১১কেনিয়াCAF
১১২লিবিয়াCAF
১১৩তানজানিয়াCAF
১১৪নাইজারCAF
১১৫মৌরিতানিয়াCAF
১১৬গাম্বিয়াCAF
১১৭সুদানCAF
১১৮উত্তর কোরিয়াAFC
১১৯সিয়েরা লিওনCAF
১২০নামিবিয়াCAF
১২১টোগোCAF
১২২ইন্দোনেশিয়াAFC
১২৩ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জUEFA
১২৪আজারবাইজানUEFA
১২৫সুরিনামCONCACAF
১২৬সাইপ্রাসUEFA
১২৭মালাউইCAF
১২৮রুয়ান্ডাCAF
১২৯এস্তোনিয়াUEFA
১৩০জিম্বাবুয়েCAF
১৩১নিকারাগুয়াCONCACAF
১৩২গিনি-বিসাউCAF
১৩৩কঙ্গো প্রজাতন্ত্রCAF
১৩৪কুয়েতAFC
১৩৫লিবিয়াCAF
১৩৬লাটভিয়াUEFA
১৩৭লিথুয়ানিয়াUEFA
১৩৮তুর্কমেনিস্তানAFC
১৩৯বুরুন্ডিCAF
১৪০সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকCAF
১৪১ফিলিপাইনAFC
১৪২মালয়েশিয়াAFC
১৪৩রুয়ান্ডাCAF
১৪৪গাম্বিয়াCAF
১৪৫ইয়েমেনAFC
১৪৬মোল্দোভাUEFA
১৪৭সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইন দ্বীপপুঞ্জCONCACAF
১৪৮ডোমিনিকান রিপাবলিকCONCACAF
১৪৯লেসোথোCAF
১৫০গায়ানাCONCACAF
১৫১নিউ ক্যালেডোনিয়াOFC
১৫২সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসCONCACAF
১৫৩সলোমন দ্বীপপুঞ্জOFC
১৫৪ফিজিOFC
১৫৫হংকংAFC
১৫৬পুয়ের্তো রিকোCONCACAF
১৫৭তাহিতিOFC
১৫৮মিয়ানমারAFC
১৫৯মালদ্বীপAFC
১৬০ভানুয়াতুOFC
১৬১মাল্টাUEFA
১৬২অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডাCONCACAF
১৬৩গ্রেনাডাCONCACAF
১৬৪কিউবাCONCACAF
১৬৫এসোয়াতিনিCAF
১৬৬বারমুডাCONCACAF
১৬৭সেন্ট লুসিয়াCONCACAF
১৬৮পাপুয়া নিউগিনিOFC
১৬৯আফগানিস্তানAFC
১৭০দক্ষিণ সুদানCAF
১৭১বার্বাডোসCONCACAF
১৭২সিঙ্গাপুরAFC
১৭৩অ্যান্ডোরাUEFA
১৭৪চাইনিজ তাইপেই (তাইওয়ান)AFC
১৭৫মন্টসেরাটCONCACAF
১৭৬নেপালAFC
১৭৭কম্বোডিয়াAFC
১৭৮মরিশাসCAF
১৭৯চাদCAF
১৮০বেলিজCONCACAF
১৮১সেন্ট ভিনসেন্টCONCACAF
১৮২লাইবেরিয়াCAF
১৮৩বাংলাদেশAFC
১৮৪ভুটানAFC
১৮৫ডমিনিকাCONCACAF
১৮৬বারমুডাCONCACAF
১৮৭সাও টোমে ও প্রিন্সিপেCAF
১৮৮কুক দ্বীপপুঞ্জOFC
১৮৯আমেরিকান সামোয়াOFC
১৯০লাওসAFC
১৯১মঙ্গোলিয়াAFC
১৯২জিবুতিCAF
১৯৩ব্রুনাইAFC
১৯৪কেম্যান দ্বীপপুঞ্জCONCACAF
১৯৫পাকিস্তানAFC
১৯৬সেশেলসCAF
১৯৭সোমালিয়াCAF
১৯৮আরুবাCONCACAF
১৯৯লিচেনস্টাইনUEFA
২০০গুয়ামAFC
২০১টার্কস ও কেইকোস দ্বীপপুঞ্জCONCACAF
২০২শ্রীলঙ্কাAFC
২০৩ম্যাকাওAFC
২০৪বাহামাCONCACAF
২০৫ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জCONCACAF
২০৬জিব্রাল্টারUEFA
২০৭ইউএস ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জCONCACAF
২০৮অ্যাঙ্গুইলাCONCACAF
২০৯সান মারিনোUEFA
২১০উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জAFC
২১১ইরিত্রিয়াCAF

নোট: আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ালিফায়ার বা বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এই রেটিং পয়েন্ট প্রতি আন্তর্জাতিক উইন্ডো শেষে ফিফা কর্তৃক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট বা পরিবর্তন করা হয়ে থাকে।

ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এ শীর্ষ ৩ পরাশক্তির বর্তমান লড়াই ও পয়েন্ট বিশ্লেষণ

২০২৬ সালের ফিফা র‍্যাংকিংয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো শীর্ষ তিনটি দলের মধ্যকার পয়েন্টের ব্যবধান। ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এ ১ নম্বর স্থানে থাকা ফ্রান্স এবং ৩ নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনার মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৩ পয়েন্টের কাছাকাছি। এর ফলে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা ফ্রেন্ডলি গেমের জয়-পরাজয় এই তিন দলের অবস্থানকে যেকোনো মুহূর্তে ওলটপালট করে দিতে পারে।

ফ্রান্স

কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বাধীন ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল বর্তমানে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানটি দখল করে রেখেছে। ইউরোপিয়ান কোয়ালিফায়ার্স এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচে টানা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে তারা স্পেনের কাছ থেকে এক নম্বর স্পটটি পুনরুদ্ধার করে। দলটির বর্তমান স্কোয়াড ডেপথ এবং তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় তাদের এই ট্র্যাকে ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।

স্পেন

ইউরোপের অন্যতম শৈল্পিক ফুটবলের দেশ স্পেন লা ফুরিয়া রোজা নামে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে নেশনস লিগ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের দুর্দান্ত ফর্মের কারণে তারা দীর্ঘ সময় শীর্ষে ছিল। বর্তমানে তারা ফ্রান্সের চেয়ে মাত্র ০.৯২ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। রদ্রি, লামিনে ইয়ামাল এবং পেদ্রির মতো তরুণ তুর্কিদের হাত ধরে স্পেন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভীতিজাগানিয়া দলগুলোর একটি।

আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা বর্তমানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। কোপা আমেরিকা জয়ের পর এবং দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে (CONMEBOL Qualifiers) টানা ভালো খেলার কারণে তারা শীর্ষ তিনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে কিছু ফ্রেন্ডলি ম্যাচ এবং অ্যাওয়ে ম্যাচে পয়েন্ট ড্রপ করার কারণে তারা ১ নম্বর থেকে সাময়িকভাবে ৩ নম্বরে নেমে এসেছে। তবে যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের পর আলবিসেলেস্তেরা আবার শীর্ষে ফিরতে পারে।

ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এ লাতিন আমেরিকার আরেক পরাশক্তি: ব্রাজিলের বর্তমান অবস্থা

ব্রাজিল ফুটবল দল (সেলেসাও) বর্তমানে ১৭৬১.১৬ পয়েন্ট নিয়ে ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এ ৬ষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় (৫,০৭০ দিনের বেশি) ফিফা র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বরে থাকার রেকর্ডটি ব্রাজিলের দখলে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কিছু ম্যাচে অপ্রত্যাশিত হার এবং দলের ভেতরের চোট সমস্যার কারণে তারা শীর্ষ ৫ থেকে কিছুটা ছিটকে গেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো এবং অ্যান্ড্রিকের মতো নতুন প্রজন্মের তারকারা দলকে পুনরায় শীর্ষ তিনে ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করছেন।

ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এ আফ্রিকান এবং এশিয়ান কনফেডারেশনের চমক

ফুটবল মানেই শুধু ইউরোপ আর দক্ষিণ আমেরিকা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আফ্রিকা (CAF) এবং এশিয়ার (AFC) দলগুলো বৈশ্বিক ফুটবলে বড় বড় পরাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, যা ফিফা র‍্যাংকিংয়েও স্পষ্ট।

মরক্কোর ঐতিহাসিক উত্থান (ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এ ৮ম স্থান)

২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো বর্তমানে ১৭৫৫.৮৭ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের ৮ম স্থানে রয়েছে। এটি যেকোনো আফ্রিকান দেশের জন্য একটি বিশাল ঐতিহাসিক অর্জন। আশরাফ হাকিমি এবং হাকিম জিয়েচের মতো বিশ্বমানের তারকাদের নিয়ে গড়া মরক্কো দল বর্তমানে বেলজিয়াম এবং জার্মানির মতো ইউরোপীয় জায়ান্টদের চেয়েও র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে রয়েছে।

এশিয়ার সেরা দল: জাপান (ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এ ১৮তম স্থান)

এশিয়ান কনফেডারেশনের (AFC) মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্লু সামুরাই খ্যাত জাপান। ১৬৬০.৪৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের ১৮তম অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ান কাপ এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এশিয়ান অঞ্চলের দলগুলোর বিপক্ষে জাপানের ধারাবাহিক আধিপত্য তাদের শীর্ষ ২০-এর মধ্যে জায়গা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। এশিয়ার অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে ইরান (ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এ ২১তম) এবং দক্ষিণ কোরিয়া (ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এ ২৫তম) অবস্থানে রয়েছে।

ফিফা র‍্যাংকিং কীভাবে গণনা করা হয়?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ফিফা কীভাবে এই পয়েন্টগুলো নির্ধারণ করে? ২০১৮ সালের পর থেকে ফিফা পয়েন্ট গণনার জন্য একটি নতুন গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করছে যা “SUM Algorithm” নামে পরিচিত।

এই পদ্ধতিতে একটি ম্যাচের পর পয়েন্ট যোগ বা বিয়োগ করা হয় নিচের সূত্রের ওপর ভিত্তি করে:

$$P = P_{before} + I \times (W – W_e)$$

এখানে চলকগুলোর অর্থ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

  • $P_{before}$: ম্যাচের আগে দলের মোট পয়েন্ট।
  • $I$ (Importance): ম্যাচের গুরুত্ব বা ওয়েটেজ। ফ্রেন্ডলি ম্যাচের চেয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচের ওয়েটেজ অনেক বেশি থাকে।
  • $W$ (Result): ম্যাচের ফলাফল (জয়ের জন্য ১, ড্রয়ের জন্য ০.৫, এবং হারের জন্য ০)।
  • $W_e$ (Expected Result): ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল, যা দুই দলের পূর্ববর্তী পয়েন্টের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে একটি জটিল গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে বের করা হয়।

সহজ কথায়, একটি দুর্বল দল যদি একটি শক্তিশালী দলকে হারিয়ে দেয়, তবে দুর্বল দলটি অনেক বেশি পয়েন্ট পায়। বিপরীতভাবে, শক্তিশালী দলটি অনেক বেশি পয়েন্ট হারায়।

২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র-তে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের গুরুত্ব

ফিফা র‍্যাংকিং কেবল একটি সংখ্যা বা মর্যাদার বিষয় নয়, এর রয়েছে চরম বাস্তবিক প্রয়োগ। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গ্রুপ ড্র-এর ক্ষেত্রে এই র‍্যাংকিং সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বকাপের ড্র-এর সময় শীর্ষ দলগুলোকে ‘পট ১’ (Pot 1) বা ‘সিডেড টিম’ হিসেবে রাখা হয়। এর ফলে শীর্ষ র‍্যাংকিংয়ে থাকা দলগুলো গ্রুপ পর্বেই একে অপরের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিটি বড় দলই চেষ্টা করে বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তের র‍্যাংকিংয়ে নিজেদের শীর্ষ ৮ বা ১০-এর মধ্যে সুরক্ষিত রাখতে।

ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ এ ফুটবল বিশ্বের বর্তমান শক্তির ভারসাম্যকে নিখুঁতভাবে প্রদর্শন করছে। ফ্রান্স, স্পেন এবং আর্জেন্টিনার মধ্যকার শীর্ষস্থানের ত্রিমুখী লড়াই ফুটবলকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। একই সাথে মরক্কো ও জাপানের মতো দলগুলোর উত্থান প্রমাণ করে যে ফুটবল বিশ্বব্যাপী আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে লড়াই শুরু হওয়ার আগে এই র‍্যাংকিংয়ের আরও কিছু রদবদল দেখার জন্য ফুটবল বিশ্ব উন্মুখ হয়ে আছে।

Follow us on Facebook Now

ফিফা র‍্যাংকিং ২০২৬ সংক্রান্ত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর (FAQ) নিচে দেওয়া হলো

  1. আর্জেন্টিনা এখন ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ১ নম্বরে নেই কেন?

    ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা দীর্ঘ সময় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উইন্ডো এবং মহাদেশীয় টুর্নামেন্টগুলোর ফলাফলের পর ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেটে পয়েন্টের কিছুটা রদবদল হয়েছে। বর্তমানে ফ্রান্স ১ নম্বরে এবং স্পেন ২ নম্বরে উঠে আসায় আর্জেন্টিনা সাময়িকভাবে ৩ নম্বর অবস্থানে রয়েছে।

  2. শীর্ষ ৩ দলের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান কত?

    বর্তমানে শীর্ষ তিনটি দলের মধ্যকার পয়েন্টের ব্যবধান খুবই সামান্য (৩ পয়েন্টেরও কম):
    ১. ফ্রান্স: ১৮৭৭.৩২ পয়েন্ট
    ২. স্পেন: ১৮৭৬.৪০ পয়েন্ট
    ৩. আর্জেন্টিনা: ১৮৭৪.৮১ পয়েন্ট

  3. আর্জেন্টিনা কীভাবে আবার ১ নম্বর স্থান ফিরে পেতে পারে?

    ফিফা র‍্যাংকিংয়ের পয়েন্ট গণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বা ওয়েটেজ দেওয়া হয় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোকে। এই জুন ২০২৬-এ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হচ্ছে। আর্জেন্টিনা যদি তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো জেতে এবং নকআউট পর্বে শক্তিশালী দলগুলোকে হারিয়ে সামনে এগিয়ে যায়, তবে তারা খুব সহজেই ফ্রান্স ও স্পেনকে টপকে আবার বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের ১ নম্বরে ফিরে আসবে।

Md. Rony Hossain

আমি, মোঃ রনি হোসেন একজন অভিজ্ঞ ক্রীড়া লেখক ও বিজ্ঞান শিক্ষক। আমি nacmaster ওয়েবসাইটে নিয়মিত ক্রিকেট বিষয়ক পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদন, ম্যাচ বিশ্লেষণ এবং আপডেটেড ক্রীড়া সংবাদ লিখে থাকি। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের লিগের তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরিতে আমার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *