ক্রিকেটপরিসংখ্যান

WPL ২০২৬ পরিসংখ্যান: সর্বোচ্চ রান, উইকেট এবং শতকের তালিকা

ডব্লিউপিএল-এর প্রতিটি সিজনে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ (Orange Cap) দেওয়া হয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহককে এবং ‘পার্পল ক্যাপ’ (Purple Cap) দেওয়া হয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিকে। ২০২৬ সিজন শেষে এই রেকর্ডগুলোতে এসেছে ব্যাপক রদবদল। এই পোস্টের মাধ্যমে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি, সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সর্বোচ্চ হাফ সেঞ্চুরিসহ WPL ২০২৬ পরিসংখ্যান আলোচনা করা হবে।

WPL ২০২৬ পরিসংখ্যান: শীর্ষ ১০ রান সংগ্রাহক (অরেঞ্জ ক্যাপ রেস)

এবারের আসরে অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। তিনি ৮ ম্যাচে ৩৪২ রান করে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে তাকে সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছেন তারই সতীর্থ ন্যাট সিভার-ব্রান্ট। ব্রান্ট মাত্র ৭ ম্যাচে ৩২১ রান করেছেন এবং এই সিজনেই তিনি ডব্লিউপিএল ইতিহাসের প্রথম সেঞ্চুরি (১০০*) হাঁকানোর মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ২৯০ রান নিয়ে তিন নম্বরে আছেন। এছাড়া বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে লিজেল লি, লরা উলভার্ট এবং অভিজ্ঞ মেগ ল্যানিং নিজেদের স্কিল দিয়ে অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইকে জমিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে হারমানপ্রীতের বিধ্বংসী স্ট্রাইক রেট (১৫০.৬৬) এবং ন্যাট সিভার-ব্রান্টের ধারাবাহিকতা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে পয়েন্ট টেবিলেও সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

WPL ২০২৬ পরিসংখ্যান: শীর্ষ ১০ উইকেট শিকারি (পার্পল ক্যাপ রেস)

এবারের আসরে পার্পল ক্যাপ বা সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির দৌড়ে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছেন গুজরাট জায়ান্টসের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সোফি ডিভাইন। তিনি ৯ ম্যাচে ১৭টি উইকেট নিয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তবে তাকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের তরুণ ভারতীয় পেসার নন্দিনী শর্মা। তিনি ৯ ম্যাচে ১৬টি উইকেট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এবং এই সিজনেই একটি ৫ উইকেট শিকারের (৫/৩৩) কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর নাদিন ডি ক্লার্ক ১৫টি উইকেট নিয়ে তিন নম্বরে অবস্থান করছেন। এছাড়া মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের লেগ-স্পিনার অ্যামেলিয়া কের এবং দিল্লির শ্রী চারাণী ১৪টি করে উইকেট নিয়ে লড়াইকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছেন। এবারের আসরে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, শীর্ষ ১০-এর মধ্যে ভারতের তরুণ প্রতিভাদের পাশাপাশি বিদেশি পেসারদের ইকোনমি রেটও অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। বিশেষ করে আরসিবির লরেন বেল মাত্র ৫.৬৩ ইকোনমি রেটে বোলিং করে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখছেন।

ক্রমখেলোয়াড়দলমোট রান
ন্যাট সিভার-ব্রান্টমুম্বাই ইন্ডিয়ান্স১৩৪৮
হারমানপ্রীত কৌরমুম্বাই ইন্ডিয়ান্স১১৯৩
মেগ ল্যানিংদিল্লি ক্যাপিটালস / ইউপি ওয়ারিয়র্জ১১৫৯
শেফালি ভার্মাদিল্লি ক্যাপিটালস১১২৪
স্মৃতি মান্ধানাআরসিবি১০২৩
এলিস পেরিআরসিবি৯৭২
হেইলি ম্যাথিউসমুম্বাই ইন্ডিয়ান্স৮৬৭
গ্রেস হ্যারিসইউপি ডব্লিউ / আরসিবি৮১৮
রিচা ঘোষআরসিবি৮১৪
১০অ্যাশলে গার্ডনারগুজরাট জায়ান্টস৮১১

WPL ২০২৬ পরিসংখ্যান: সর্বোচ্চ শতক

২০২৬ সিজন পর্যন্ত ডব্লিউপিএল-এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ শতকের মালিক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ন্যাট সিভার-ব্রান্ট। তিনি এই সিজনেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ৫৪ বলে অপরাজিত ১০০* রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ইতিহাস গড়েন। এটি ছিল ডব্লিউপিএল-এর ৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনো সেঞ্চুরি। যদিও ২০২৬ সিজনে আরও বেশ কয়েকজন ব্যাটার সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছেছিলেন, তবে তারা শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি: স্মৃতি মান্ধানা (আরসিবি) একটি ম্যাচে ৯৬ রান করে আউট হন, যা এবারের সিজনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। সোফি ডিভাইন (গুজরাট জায়ান্টস) একটি ম্যাচে ৯৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। বর্তমানে ডব্লিউপিএল-এর মোস্ট হান্ড্রেড টেবিলে ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ১টি সেঞ্চুরি নিয়ে এককভাবে রাজত্ব করছেন। তার এই কীর্তি টুর্নামেন্টে ব্যাটারদের জন্য এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

ক্রমখেলোয়াড়দলউইকেট সংখ্যা
অ্যামেলিয়া কারমুম্বাই ইন্ডিয়ান্স৫৪
হেইলি ম্যাথিউসমুম্বাই ইন্ডিয়ান্স৪৬
সোফি একলেস্টোনইউপি ওয়ারিয়র্জ৪৩
ন্যাট সিভার-ব্রান্টমুম্বাই ইন্ডিয়ান্স৩৯
শিখা পান্ডেদিল্লি / ইউপি ডব্লিউ৩৫
মারিজান ক্যাপদিল্লি ক্যাপিটালস৩১
দীপ্তি শর্মাইউপি ওয়ারিয়র্জ৩১
জেস জোনাসেনদিল্লি ক্যাপিটালস৩১
শ্রেয়াঙ্কা পাতিলআরসিবি২৮
১০অ্যাশলে গার্ডনারগুজরাট জায়ান্টস২৬
খেলোয়াড়দলশতকসর্বোচ্চ স্কোরপ্রতিপক্ষ
ন্যাট সিভার-ব্রান্টমুম্বাই ইন্ডিয়ান্স১০০*আরসিবি

মজার তথ্য: ২০২৫ সালে জর্জিয়া ভল এবং ২০২৩ সালে সোফি ডিভাইন ৯৯ রানে আউট/অপরাজিত থেকে সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন।

WPL ২০২৬ পরিসংখ্যান: শীর্ষ ১০ হাফ সেঞ্চুরি

এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি হাফ সেঞ্চুরি করার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ন্যাট সিভার-ব্রান্ট এবং হারমানপ্রীত কৌর। দুজনেই ৩টি করে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। তবে ন্যাট সিভার-ব্রান্টের একটি ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি থাকায় তিনি কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। তালিকায় পরের স্থানগুলোতে রয়েছেন ইউপি ওয়ারিয়র্জের ফিবি লিচফিল্ড, আরসিবির অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের লিজেল লি। তারা প্রত্যেকেই ২টি করে হাফ সেঞ্চুরি করে নিজ নিজ দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে স্মৃতি মান্ধানা ৯৬ রান করে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও তার ব্যাটিং স্টাইল দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এছাড়া গ্রেস হ্যারিস এবং সোফি ডিভাইনও ২টি করে ফিফটি নিয়ে শীর্ষ ১০-এর লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন। এবারের সিজনে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রথম ১০ জন ব্যাটারের মধ্যে ভারতীয়দের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের দাপট ছিল স্পষ্ট। যারা কেবল বড় স্কোরই করেননি, বরং দলের বিপদের সময় হাল ধরে ইনিংসকে বড় করেছেন।

খেলোয়াড়দলইনিংসহাফ সেঞ্চুরি (৫০)সর্বোচ্চ স্কোর
ন্যাট সিভার-ব্রান্টমুম্বাই ইন্ডিয়ান্স১০০*
হারমানপ্রীত কৌরমুম্বাই ইন্ডিয়ান্স৮২*
ফিবি লিচফিল্ডইউপি ওয়ারিয়র্জ৭৮
স্মৃতি মান্ধানাআরসিবি৯৬
মেগ ল্যানিংইউপি ওয়ারিয়র্জ৭০
গ্রেস হ্যারিসআরসিবি৮৫
লিজেল লিদিল্লি ক্যাপিটালস৮৬
বেথ মুনিগুজরাট জায়ান্টস৬২*
অ্যাশলেই গার্ডনারগুজরাট জায়ান্টস৬৫
সোফি ডিভাইনগুজরাট জায়ান্টস৯৫

WPL ২০২৬ পরিসংখ্যান: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

  1. WPL-এর ইতিহাসে প্রথম ১০০ রান কে করেছেন?

    ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ২০২৬ সিজনে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন।

  2. ডব্লিউপিএল-এ এক ম্যাচে সেরা বোলিং ফিগার কার?

    অস্ট্রেলিয়ার এলিস পেরি। তিনি ২০২৪ সিজনে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৬টি উইকেট নিয়েছিলেন।

  3. কোন ভারতীয় খেলোয়াড় WPL-এ সবচেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন?

    দিল্লি ক্যাপিটালসের ওপেনার শেফালি ভার্মা। তিনি ২০২৬ সাল পর্যন্ত লিগে ৫০টিরও বেশি ছক্কা মেরেছেন।

  4. ‘পার্পল ক্যাপ’ কী?

    প্রতিটি WPL সিজনে যে বোলার সবচেয়ে বেশি উইকেট পান, তাকে সম্মানসূচক ‘পার্পল ক্যাপ’ প্রদান করা হয়।

  5. ২০২৬ পর্যন্ত কোন দল সবচেয়ে বেশিবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে?

    মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ডব্লিউপিএল-এর ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে

আইপিএল ২০২৬: সময়সূচী, দল, ভেন্যু এবং নিলামের বিস্তারিত আপডেট 

Md. Rony Hossain

আমি, মোঃ রনি হোসেন একজন অভিজ্ঞ ক্রীড়া লেখক ও বিজ্ঞান শিক্ষক। আমি nacmaster ওয়েবসাইটে নিয়মিত ক্রিকেট বিষয়ক পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদন, ম্যাচ বিশ্লেষণ এবং আপডেটেড ক্রীড়া সংবাদ লিখে থাকি। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের লিগের তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরিতে আমার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *